Skip to main content

বাংলাদেশের কৃষক (১-৪)-শ্রেণীর জন্য



বাংলাদেশের কৃষক

সূচনাঃ বাংলাদেশ প্রধানত একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি হল এদেশের অর্থনীতিরি ভিত্তি। যে সকল লোক জমি চাষ করে তাদেরকে কৃষক বলা হয়। কৃষকেরা ফসল জন্মায় যা আমাদের মৌলিক প্রয়োজনে অতীব গুরুত্বপূণ। তারা আমাদের দেশের মেরুদন্ড।

কৃষকদের বৈশিষ্ট্যঃ আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর কৃষক আছে। ধনী উচ্চ শ্রেণীর কৃষক, মধ্য শ্রেণীর কৃষক এবং ভূমিহীন কৃষক। মধ্য শ্রেণীর কৃষকসহ আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকেরা সাধারনত নিজেদের ষাঁড় দিয়ে জমি চাষ করে এবং কোন রকমে তার নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য জন্মাতে পারে। ধনী শ্রেণীর কৃষকের সংখ্যা খুবই কম এবং তারা তাদের সাধারন জীবনযাপনের পরেও জমি থেকে অনেক সম্পদ পায়। ভূমিহীন কৃষকেরা অন্যের জমি চাষাবাদ করে এবং জমির মালিকের কাছ থেকে তারা ফসলের সামান্য অংশ পায়।

চাষাবাদ পদ্ধতিঃ আমাদের দেশের চাষাবাদ পদ্ধতি খুবই অপ্রচলিত। কৃষকদের অধিকাংশই গরীব এবং মূর্খ। চাষাবাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মতো সামর্থ্য তাদের নেই। তারা বলদ দিয়ে তাদের জমি চাষ করে এবং ফসল কাঁটতে কাস্তে ব্যবহার করে। তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি চাষ করার নিয়মো জানে না। যার ফলে চাষাবাদের জমি থেকে আমরা ভাল উৎপাদন পাই না।

কৃষকদের অবস্থাঃ আমাদের কৃষকদের জীবনমান খুবই নিম্ন। এমনকি তাদেরকে জীবনধারনের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবেও কষ্ট ভোগ করতে হয়। তার হতভাগ্য, তাদের প্রতি মন্দ আচরণ করা হয় এবং তারা আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত । তারা কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু উপযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। যার ফলে তারা বিভিন্ন রোগে ভোগে। তাদের ছেরে মেয়েরা ভাল শিক্ষা পায় না এবং তারা পূর্ব পুরুষদের পথ অনুসরণ করে।

গৃহীত পদক্ষেপ সমূহঃ আমাদের কৃষকদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। তাদেরকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া উচিৎ। তাদের হাইব্রিড বীজ, সঠিক কীটনাশক ঔষধ এবং উপযুক্ত পরিমাণে সার দিতে হবে যাতে করে তারা অধিক খাদ্য জন্মাতে পারে। কৃষিজাত দ্রব্যের ন্যায় সংগত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে যাতে কৃষকেরা তাদর ফসলের সঠিক মূল্য পেতে পারে। সেচ ব্যবস্থার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের কম সূদে ধান সুবিধা দিতে হবে।

উপসংহারঃ আমাদের দেশের উন্নতি প্রধানত আমাদের কৃষির উন্নতির উপর নির্ভরশীল। আমাদের কৃষকদের অবহেলা করা উচিৎ নয় এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের সকল সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।




Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের পাখি (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বাংলাদেশের পাখি ভূমিকাঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বংলাদেশকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস স্থলে পরিনত হতে সাহায্য করেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে এখানে বিভিন্ন আকৃতির, রঙের এবং গঠনের পাখির বিচরণ দেখা যায়। নানা জাতের পাখিঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে দোয়েল, কাক, মাছরাঙা, চড়ুই, চিল, সারস, কবুতর, বৌ-কথাকও, ময়না, কোকিল প্রভৃতি। বর্ণনাঃ  দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। এটি দেখতে খুব সুন্দর। এটি আকৃতিতে ছোট। ইহার দেহ কালো এবং সাদা রঙের পালকে আবৃত । বাংলাদেশের সর্বত্র এ পাখিটি দেখা যায়। কাক কালো পাখি। এটি তিন জাতের, দাড়কাক, পাতি কাক এবং কৃঞ্চ কাক। ইহার লম্বা এবং শক্ত ঠোঁট আছে। উচু গাছে ইহা তাদের বাসা বাঁধে। ইহা কীটপতঙ্গ, ভাত এবং শস্য খায়। বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাখি হচ্ছে মাছরাঙা। এটি আকারে ছোট। ইহার নম্বা ঠোঁট আছে এবং মাথা বাদামী বর্ণের। ইহা ছোট মাছ খায়। পুকুর অথবা নদীর কিনারায় এটি বাস করে। চিল বাংলাদেশের আরেকটি পাখি। এটি আকাশের উঁচুতে উড়ে। ইহার দৃষ্টি শক্তি খুব তীক্ষ্ণ। ইহা ছোঁ মেরে নীচে এসে ব্যাঙ এবং মাছ ধরে । মাঝে মাঝে ইহা মুরগীর বাচ্চা চুরি করে। উঁচু...

বর্ষাকাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বর্ষাকাল ভূমিকা: বাংলাদেশ ঋতুদের সত্যতার একটি ভূমি। বৃষ্টির ঋতু তাদের এক। এটি আশার ও শ্রাবণের বাঙালি মাসের অন্তর্ভুক্ত। গরম আবহাওয়ার দীর্ঘকাল পরে বৃষ্টির সময় তার ঝরনাগুলি পৃথিবীকে শান্ত করার জন্য আসে। বাংলাদেশের মতো কৃষি দেশে এই ঋতু সর্বাধিক গুরুত্ব। এটি একটি বড় পরিমাণে আমাদের জীবন এবং সংস্কৃতির উপর প্রভাব ফেলে। কারণ: বর্ষা মৌসুমে বর্ষা হয়। বঙ্গোপসাগরের বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষাকালে প্রচুর বর্ষণ ঘটে। ফলস্বরূপ, মৌসুমের সময় তিনি একটি ভারী বৃষ্টিপাত পান। বর্ণনা: বৃষ্টির সময় আকাশ প্রায়শই আকাশের মেঘের প্যাচ দিয়ে আকাশে থাকে যা আকাশ জুড়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। বায়ু ঘা সহিংস বিস্ফোরণ। আলোর ঝলকানি এবং বজ্রধ্বনি। সূর্য মেঘের পিছনে লুকিয়ে থাকে এবং তাড়াহুড়ো করে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও একসঙ্গে দিন জন্য অবিরাম downpour আছে। তারপর নদী নদী তলিয়ে যায়। ক্ষেত্রগুলি পানির নিচে চলে আসে এবং পানির একটি বিশাল শীতের মতো মনে হয়। উপকারিতা: বৃষ্টির সময় নিঃসন্দেহে আমাদের প্রচুর ভাল করে। প্রকৃতি বর্ষার আগমনের সময়ে একটি নতুন চেহারা অনুমান। গাছ এবং গাছপালা পাত...

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল সূচনাঃ কাঁঠাল আমদের জাতীয় ফল । ইহা সকল ফলের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। ইহা খুব সুস্বাদু ফল এবং প্রায় সকলেই ইহাকে পছন্দ করে। আমাদের দেশের সর্বত্রই এ ফলটি অহরহ পওয়া যায়। কোথায় জন্মেঃ আমাদের দেশের সব জায়গাতে কাঁঠাল জন্মে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে উঁচু জায়গা যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, সেখানটাতে কাঁঠাল চাষের জন্য উপযুক্ত। টাংগাইল, মধুপুর, ভওয়াল গড়, যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং সাভারে প্রচুর কাঁঠাল জন্মে। বর্ণনাঃ কাঁঠাল খুব বড় আকৃতির ফল। ইহার ওজন ৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। ইহার আবরণ কাঁটা ভরা এবং দেখতে হলুদ কিংবা কাল বর্ণের । ইহাতে প্রচুর পরিমানে কোষ থাকে যেগলো দেখতে হলুদ বর্ণের। পত্যেক কোষে একটি বীচি থাকে । আমরা শুধু কোষ খাই। এই কোষ থেকে আমরা রসও পাই । যখন ইহাকে নিষ্পেষিত করা হয়। কাঁঠাল গাছ খুব বড় হতে পারে। সাধারণতঃ খুব বড় গাছগুলোতে কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায় । স্বভাবত কাঁঠাল গাছের মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ছোট গাছগুলোতে কাঁঠাল ধরতে দেখা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় হচ্ছে কাঁঠাল ফলের মৌসুম। কাঁঠাল পাকতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। খাদ্য...