Skip to main content

আমাদের খাদ্য সমস্যা (১-৪)-শ্রেণীর জন্য



আমাদের খাদ্য সমস্যা

সূচনাঃ এক সময় বাংলাদেশ ছিল শস্যের ভান্ডার। কিন্তু সেই সুখের দিন আজ চলে গেছে। এখন আমরা প্রকট খাদ্যের অভাবে ভূগছি। ইহা আমাদের অস্তিত্তের হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

সমস্যার বর্তমান অবস্থাঃ খাদ্য সমস্যা অনেকাংশে শস্যের উৎপাদন এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। আমাদের কৃষকেরা এখন তাদের প্রাপ্ত ফসলের সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যদি তারা এ সকল সবিধা পেত তাহলে হয়ত বা তারা সচ্ছল হতে পারত।

সমস্যার কারণঃ বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যার অনেক কারণ আছে। আমাদের চাষাবাদ পদ্ধতি এবং খাদ্য উৎপাদনের অন্যান্য পন্থাগুলো ক্রুটিপূর্ণ এবং অবৈজ্ঞানিক। প্রধানতঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, ঘুর্নিঝড়, খরা এবং কীটপতঙ্গ প্রতি বছর আমাদের উৎপন্ন ফসলের ক্ষতি করে। পক্ষান্তরে অজ্ঞতার কারণে কৃষকেরা কাঙ্খিত খাদ্য উৎপন্ন করতে পারে না। আর এ কারণে আমাদের খাদ্য সমস্যা।

সরকারের ভূমিকাঃ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা অধিক মুনাফার লোভে খাদ্যকে গুদামজাত করে কৃত্তিম সমস্যার সৃষ্টি করেন । এক্ষেত্রে সরকারকে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করা দরকার। অবশ্যই তাৎক্ষনিকভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে আটক করা এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া উচিৎ। সরকারের উচিৎ একান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী যেমন চাল, চিনি, লবন, মসলা এবং পিয়াজ আমদানী করা । এমনকি সরকারের উচিৎ পুলিশ বাহিনী দ্বারা কালোবাজারীদের প্রতিরোধ করা।

সমাধানঃ এ সমস্যা সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং সমবায় সমিতির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতির প্রবর্তন করা উচিৎ। সরকার কর্তৃক কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, ধান প্রভৃতি সরবরাহ করা উচিৎ। সরকার কর্তৃক শুষ্ক মৌসুমে কৃত্রিম পানি সেচের যন্ত্রপাতিরও সংশোধন করা উচিৎ। সর্বোপরি, সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দুরীকরণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ যাতে কৃষকেরা অতি সহজে যান্ত্রিক চাষাবাদ এবং উপযুক্ত সময়ে কীটনাশক ঔষধ এবং সার প্রয়োগের ব্যবহার বিধি শিখতে হবে।

উপসংহারঃ পরিশেষে আমরা বলতে পরি খাদ্য সমস্যা হল প্রকৃতি এবং মানুষ উভয় কর্তৃক সৃষ্ট সমস্যা। আমাদের উচিৎ এ সমস্যাগুলো দূরীভূত করার জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা এবং দক্ষতার সক্রিয় প্রয়োগ এবং বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে তোলা।




Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের পাখি (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বাংলাদেশের পাখি ভূমিকাঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বংলাদেশকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস স্থলে পরিনত হতে সাহায্য করেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে এখানে বিভিন্ন আকৃতির, রঙের এবং গঠনের পাখির বিচরণ দেখা যায়। নানা জাতের পাখিঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে দোয়েল, কাক, মাছরাঙা, চড়ুই, চিল, সারস, কবুতর, বৌ-কথাকও, ময়না, কোকিল প্রভৃতি। বর্ণনাঃ  দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। এটি দেখতে খুব সুন্দর। এটি আকৃতিতে ছোট। ইহার দেহ কালো এবং সাদা রঙের পালকে আবৃত । বাংলাদেশের সর্বত্র এ পাখিটি দেখা যায়। কাক কালো পাখি। এটি তিন জাতের, দাড়কাক, পাতি কাক এবং কৃঞ্চ কাক। ইহার লম্বা এবং শক্ত ঠোঁট আছে। উচু গাছে ইহা তাদের বাসা বাঁধে। ইহা কীটপতঙ্গ, ভাত এবং শস্য খায়। বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাখি হচ্ছে মাছরাঙা। এটি আকারে ছোট। ইহার নম্বা ঠোঁট আছে এবং মাথা বাদামী বর্ণের। ইহা ছোট মাছ খায়। পুকুর অথবা নদীর কিনারায় এটি বাস করে। চিল বাংলাদেশের আরেকটি পাখি। এটি আকাশের উঁচুতে উড়ে। ইহার দৃষ্টি শক্তি খুব তীক্ষ্ণ। ইহা ছোঁ মেরে নীচে এসে ব্যাঙ এবং মাছ ধরে । মাঝে মাঝে ইহা মুরগীর বাচ্চা চুরি করে। উঁচু...

বর্ষাকাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বর্ষাকাল ভূমিকা: বাংলাদেশ ঋতুদের সত্যতার একটি ভূমি। বৃষ্টির ঋতু তাদের এক। এটি আশার ও শ্রাবণের বাঙালি মাসের অন্তর্ভুক্ত। গরম আবহাওয়ার দীর্ঘকাল পরে বৃষ্টির সময় তার ঝরনাগুলি পৃথিবীকে শান্ত করার জন্য আসে। বাংলাদেশের মতো কৃষি দেশে এই ঋতু সর্বাধিক গুরুত্ব। এটি একটি বড় পরিমাণে আমাদের জীবন এবং সংস্কৃতির উপর প্রভাব ফেলে। কারণ: বর্ষা মৌসুমে বর্ষা হয়। বঙ্গোপসাগরের বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষাকালে প্রচুর বর্ষণ ঘটে। ফলস্বরূপ, মৌসুমের সময় তিনি একটি ভারী বৃষ্টিপাত পান। বর্ণনা: বৃষ্টির সময় আকাশ প্রায়শই আকাশের মেঘের প্যাচ দিয়ে আকাশে থাকে যা আকাশ জুড়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। বায়ু ঘা সহিংস বিস্ফোরণ। আলোর ঝলকানি এবং বজ্রধ্বনি। সূর্য মেঘের পিছনে লুকিয়ে থাকে এবং তাড়াহুড়ো করে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও একসঙ্গে দিন জন্য অবিরাম downpour আছে। তারপর নদী নদী তলিয়ে যায়। ক্ষেত্রগুলি পানির নিচে চলে আসে এবং পানির একটি বিশাল শীতের মতো মনে হয়। উপকারিতা: বৃষ্টির সময় নিঃসন্দেহে আমাদের প্রচুর ভাল করে। প্রকৃতি বর্ষার আগমনের সময়ে একটি নতুন চেহারা অনুমান। গাছ এবং গাছপালা পাত...

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল সূচনাঃ কাঁঠাল আমদের জাতীয় ফল । ইহা সকল ফলের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। ইহা খুব সুস্বাদু ফল এবং প্রায় সকলেই ইহাকে পছন্দ করে। আমাদের দেশের সর্বত্রই এ ফলটি অহরহ পওয়া যায়। কোথায় জন্মেঃ আমাদের দেশের সব জায়গাতে কাঁঠাল জন্মে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে উঁচু জায়গা যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, সেখানটাতে কাঁঠাল চাষের জন্য উপযুক্ত। টাংগাইল, মধুপুর, ভওয়াল গড়, যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং সাভারে প্রচুর কাঁঠাল জন্মে। বর্ণনাঃ কাঁঠাল খুব বড় আকৃতির ফল। ইহার ওজন ৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। ইহার আবরণ কাঁটা ভরা এবং দেখতে হলুদ কিংবা কাল বর্ণের । ইহাতে প্রচুর পরিমানে কোষ থাকে যেগলো দেখতে হলুদ বর্ণের। পত্যেক কোষে একটি বীচি থাকে । আমরা শুধু কোষ খাই। এই কোষ থেকে আমরা রসও পাই । যখন ইহাকে নিষ্পেষিত করা হয়। কাঁঠাল গাছ খুব বড় হতে পারে। সাধারণতঃ খুব বড় গাছগুলোতে কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায় । স্বভাবত কাঁঠাল গাছের মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ছোট গাছগুলোতে কাঁঠাল ধরতে দেখা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় হচ্ছে কাঁঠাল ফলের মৌসুম। কাঁঠাল পাকতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। খাদ্য...