Skip to main content

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য (১-৪)-শ্রেণীর জন্য



বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

সূচনাঃ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। যাঁরা বিশ্ব প্রকৃতির অনন্ত বিচিত্রির মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চায়, তাঁদের পক্ষে এদেশের নির্মল আকাশ, নদী-কান্তার, পুষ্প-পল্লব, বটকৃক্ষ ছায়া এবং সুশীতল পল্লী বীথিকায় আছে এক অপূর্ব আবেদন।

ভূমির সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশের আয়তন প্রায় ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার। এর সমগ্র ভূমিই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বিরাট এলাকা জুড়ে রয়েছে এর সমতল ভূমি, যা দেখেতে খুবই সুন্দর। অন্যদিকে সিলেট, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রামে রয়েছে উঁচু উঁচু পাহাড়। এছাড়াও এখানে আছে ঘন বন। যার মধ্যে খুলনা সন্দর বন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার এ সুন্দর বনেই বাস করে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যাবলী শুধুমাত্র এদেশের মানুষের জন্যেই নয়: বরং সমগ্র বিশ্বের পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয়।

নদন-নদীর সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশ একটি নদীর দেশ। পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা বাংলাদেশরে বড় নদী। সমতল ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি মাটিকে গাছপালা বৃদ্ধির জন্য উর্বর করে তোলে। এ নদীগুলোর অবদানের ফলেই বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাগান বলে অভিহিত করা যায়।

বিভিন্ন ঋতুর সৌন্দর্যঃ বাংলাদেশে বার মাস ধরেই চলে ষড় ঋতুর বৈচিত্রাবলী। গ্রীষ্মকাল সূর্য উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং মাটিতে আনে তীব্র আঘাত। সূর্যের এই দগ্ধ তাপে মানুষ হয়ে উঠে ক্লান্ত । কিন্তু গ্রীষ্মকালীন আম, কাঁঠাল এবং লিচু অবসন্নত দূর করে দেয়। এর পরই আকাশ হয়ে উঠে মেঘাচ্ছন্ন। আর প্রবল বৃষ্টিতে প্রকৃতি ঠান্ডা হয়ে হয়ে যায়। বর্ষাকালের বিদায়লগ্নেই অগমন হয় শরতের। হেমন্ত হচ্ছে শরতের অগ্রদূত। এ ঋতু আমাদের দেশের কৃষকদের জন্য খুবই আনন্দের কারণ তখন তারা ধান কেটে বাড়ি নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকে। কনকনে ঠান্ডা নিয়ে আসে শীতকাল। প্রকৃতিকে নির্জীব এবং নিরলস দেখা যায়। শীতের পর পরেই আসে ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে ফুল ফোটে, আর আমাদের দেয় মিষ্টি গন্ধ।

উপসংহারঃ বাংলাদেশের বুকে সারা বছরই সীমাহীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিরাজ করে। মানুষের মন ও চরিত্রের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ সম্পদ।




Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের পাখি (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বাংলাদেশের পাখি ভূমিকাঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বংলাদেশকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস স্থলে পরিনত হতে সাহায্য করেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে এখানে বিভিন্ন আকৃতির, রঙের এবং গঠনের পাখির বিচরণ দেখা যায়। নানা জাতের পাখিঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে দোয়েল, কাক, মাছরাঙা, চড়ুই, চিল, সারস, কবুতর, বৌ-কথাকও, ময়না, কোকিল প্রভৃতি। বর্ণনাঃ  দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। এটি দেখতে খুব সুন্দর। এটি আকৃতিতে ছোট। ইহার দেহ কালো এবং সাদা রঙের পালকে আবৃত । বাংলাদেশের সর্বত্র এ পাখিটি দেখা যায়। কাক কালো পাখি। এটি তিন জাতের, দাড়কাক, পাতি কাক এবং কৃঞ্চ কাক। ইহার লম্বা এবং শক্ত ঠোঁট আছে। উচু গাছে ইহা তাদের বাসা বাঁধে। ইহা কীটপতঙ্গ, ভাত এবং শস্য খায়। বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাখি হচ্ছে মাছরাঙা। এটি আকারে ছোট। ইহার নম্বা ঠোঁট আছে এবং মাথা বাদামী বর্ণের। ইহা ছোট মাছ খায়। পুকুর অথবা নদীর কিনারায় এটি বাস করে। চিল বাংলাদেশের আরেকটি পাখি। এটি আকাশের উঁচুতে উড়ে। ইহার দৃষ্টি শক্তি খুব তীক্ষ্ণ। ইহা ছোঁ মেরে নীচে এসে ব্যাঙ এবং মাছ ধরে । মাঝে মাঝে ইহা মুরগীর বাচ্চা চুরি করে। উঁচু...

বর্ষাকাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

বর্ষাকাল ভূমিকা: বাংলাদেশ ঋতুদের সত্যতার একটি ভূমি। বৃষ্টির ঋতু তাদের এক। এটি আশার ও শ্রাবণের বাঙালি মাসের অন্তর্ভুক্ত। গরম আবহাওয়ার দীর্ঘকাল পরে বৃষ্টির সময় তার ঝরনাগুলি পৃথিবীকে শান্ত করার জন্য আসে। বাংলাদেশের মতো কৃষি দেশে এই ঋতু সর্বাধিক গুরুত্ব। এটি একটি বড় পরিমাণে আমাদের জীবন এবং সংস্কৃতির উপর প্রভাব ফেলে। কারণ: বর্ষা মৌসুমে বর্ষা হয়। বঙ্গোপসাগরের বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষাকালে প্রচুর বর্ষণ ঘটে। ফলস্বরূপ, মৌসুমের সময় তিনি একটি ভারী বৃষ্টিপাত পান। বর্ণনা: বৃষ্টির সময় আকাশ প্রায়শই আকাশের মেঘের প্যাচ দিয়ে আকাশে থাকে যা আকাশ জুড়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। বায়ু ঘা সহিংস বিস্ফোরণ। আলোর ঝলকানি এবং বজ্রধ্বনি। সূর্য মেঘের পিছনে লুকিয়ে থাকে এবং তাড়াহুড়ো করে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও একসঙ্গে দিন জন্য অবিরাম downpour আছে। তারপর নদী নদী তলিয়ে যায়। ক্ষেত্রগুলি পানির নিচে চলে আসে এবং পানির একটি বিশাল শীতের মতো মনে হয়। উপকারিতা: বৃষ্টির সময় নিঃসন্দেহে আমাদের প্রচুর ভাল করে। প্রকৃতি বর্ষার আগমনের সময়ে একটি নতুন চেহারা অনুমান। গাছ এবং গাছপালা পাত...

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল (১-৪)-শ্রেণীর জন্য

আমাদের জাতীয় ফল/কাঁঠাল সূচনাঃ কাঁঠাল আমদের জাতীয় ফল । ইহা সকল ফলের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। ইহা খুব সুস্বাদু ফল এবং প্রায় সকলেই ইহাকে পছন্দ করে। আমাদের দেশের সর্বত্রই এ ফলটি অহরহ পওয়া যায়। কোথায় জন্মেঃ আমাদের দেশের সব জায়গাতে কাঁঠাল জন্মে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে উঁচু জায়গা যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, সেখানটাতে কাঁঠাল চাষের জন্য উপযুক্ত। টাংগাইল, মধুপুর, ভওয়াল গড়, যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং সাভারে প্রচুর কাঁঠাল জন্মে। বর্ণনাঃ কাঁঠাল খুব বড় আকৃতির ফল। ইহার ওজন ৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। ইহার আবরণ কাঁটা ভরা এবং দেখতে হলুদ কিংবা কাল বর্ণের । ইহাতে প্রচুর পরিমানে কোষ থাকে যেগলো দেখতে হলুদ বর্ণের। পত্যেক কোষে একটি বীচি থাকে । আমরা শুধু কোষ খাই। এই কোষ থেকে আমরা রসও পাই । যখন ইহাকে নিষ্পেষিত করা হয়। কাঁঠাল গাছ খুব বড় হতে পারে। সাধারণতঃ খুব বড় গাছগুলোতে কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায় । স্বভাবত কাঁঠাল গাছের মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত কাঁঠাল দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ছোট গাছগুলোতে কাঁঠাল ধরতে দেখা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় হচ্ছে কাঁঠাল ফলের মৌসুম। কাঁঠাল পাকতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। খাদ্য...